কবরের বিস্ময়কর একটি ঘটনা।

কবরের বিস্ময়কর কয়েকটি ঘটনা

বনী ইসরাঈলের কিছু সংখ্যক আবেদ লোক কোন এক কবর স্থানে পৌঁছে পরস্পর পরামর্শ করলেন, আমরা আল্লাহর দরবারে দোআ করব,

যেন কবরস্থান থেকে কোন মৃত ব্যক্তি জীবিত হয়ে উঠে, ফলে আমরা তাদের নিকট মৃত্যুর হাল-হকিকত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারি, কি অবস্থা তাদের উপর দিয়ে অতিক্রম করল।

পরামর্শ মোতাবেক তারা আল্লাহ তা’আলার দরবারে দো’আ করলেন। মনজুর হল তাদের দো’আ । এক ব্যক্তি কবর থেকে বের হল। অধিক সিজদার চিহ্ন তার ললাটে প্রস্ফুটিত ছিল।

সে বলল, তোমরা আমার নিকট কি জিজ্ঞেস করতে চাও? মৃত্যুর পর আমার আজ ৫০ বৎসর অতিক্রান্ত হল; কিন্তু মৃত্যুকালিন যন্ত্রনা এখনো আমার শরীর থেকে যায়নি।

হযরত হাসান (রাঃ) বলেন, একবার হযরত রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু যন্ত্রনার কথা আলোচনা করলেন। তিনি ইরশাদ করলেন : মৃত্যুর এত কষ্ট হয় যেরূপ ৩০০ স্থানে তলোয়ারের আঘাতে কাটলে কষ্ট হয় ।

হাদীস শরীফে আছে, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : আয় আল্লাহ্! তুমি রূহকে শিরা, হাড় এবং আঙ্গুলসমূহ থেকে বের কর । মৃত্যুর কষ্ট তুমি আমার জন্য লাঘব কর।

অন্যত্র এরশাদ করেন : সে সত্তার শপথ, যার হাতে আমার আত্মা, সহস্র স্থানে তলোয়ারের আঘাত অপেক্ষাও মৃত্যুর কষ্ট বেশী মারাত্মক ।

হযরত ইমাম আওযাঈ (রঃ) বলেন : আমার নিকট এ সংবাদ পৌঁছেছে, কিয়ামতে পুনরুথানের পূর্ব পর্যন্ত মৃতদের মৃত্যুর কষ্টের প্রতিক্রিয়া অনুভুত হতে থাকবে।

হযরত শাদ্দাদ ইবনে আউস বলেন : মউত দুনিয়া ও আখিরাতের সব কষ্ট অপেক্ষা অধিক মারাত্মক। করাত দিয়ে চিরার চেয়েও এর কষ্ট বেশী, ক্যাচি দিয়ে কর্তন করার চেয়ে অধিক কষ্টদায়ক, পাত্রে পাকানোর চেয়ে মারাত্মক।

মৃতরা যদি কবর থেকে উঠে মৃত্যু যন্ত্রনার কথা আলোচনা করত, তাহলে কেউ সুখ ও আরামে সময় কাটাতে পারত না, সুখ নিদ্রা যেতে পারত না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *