রোগের ঔষধ থানকুনি পাতা

রোগের ঔষধ থানকুনি পাতা

থানকুনি পাতা ঔষধ হিসেবে কাজ করে । আমাদের দেশের খুব পরিচিত একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ থানকুনি পাতা। এর ল্যাটিন নাম হচ্ছে  centella  aciatica, গ্রামাঞ্চলে থানকুনি পাতার ব্যবহার আগে আদি আমল থেকেই চলে আসছে।

ছোট্ট প্রায় গোলাকৃতি পাতার মধ্যে রয়েছে ওষুধি সব গুণ রয়েছে । থানকুনি পাতার রস রোগ নিরাময়ে অতুলনীয় কাজ করে । প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বহু রোগের উপশম হয় এর ভেষজ গুণ থাকে। খাদ্য উপায়ে এর সরাসরি গ্রহণ রোগ নিরাময়ে থানকুনি যথার্থ ভূমিকা রাখতে সাহায্য করে ।

image

অঞ্চলভেদে থানকুনি পাতাকে আদামনি, তিতুরা, টেয়া, মানকি, থানকুনি, আদাগুনগুনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি, মানামানি, ধূলাবেগুন, হরেক রকম নামে ডাকা হয়। তবে বর্তমানে থানকুনি বললে সবাই চেনে যাবে।
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কেউ যদি নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়া শুরু করে, তাহলে মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অংশের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করতে পারবে । সেই সঙ্গে মেলে আরও অনেক উপকার পাবে।

যেমন ধরেন …
১. চুল পড়ার হার কমে যাবে ;
নানা সময়ে হওয়া বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে সপ্তাহে ২-৪ বার থানকুনি পাতা খেলে স্কাল্পের ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করতে পারে । ফলে চুল পড়ার মাত্রা কমতে শুরু করবে । চুল পড়ার হার কমাতে পারে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। কীভাবে? পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা নিয়ে তা থেঁতো করে নিতে পারেন। তারপর তার সঙ্গে পরিমাণ মতো তুলসি পাতা এবং আমলা মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে পারেন।

সবশেষে পেস্টটা চুলে লাগিয়ে নিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে আপনাকে । ১০ মিনিট পরে ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে চুল গুলো । প্রসঙ্গত, সপ্তাহে কম করে ৩ বার এইভাবে চুলের পরিচর্যা করলেই দেখবেন কেল্লা ফতে! হয়ে যায়

image
২. টক্সিক উপাদানেরা শরীর থেকে বেরিয়ে যাবে:
নানাভাবে সারা দিন ধরে একাধিক ক্ষতিকর টক্সিন আমাদের শরীরে, রক্তে প্রবেশ করে থাকে । এইসব বিষেদের যদি সময় থাকতে থাকতে শরীর থেকে বের করে দেওয়া না যায়, তাহলে কিন্তু বেজায় বিপদ হবে! আর এই কাজটি করে সাহায্য করে থানকুনি পাতা। কীভাবে করে? এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে অল্প পরিমাণ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে ২ চামচ মধু মিশিয়ে খেলে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানগুলি বেরিয়ে যাবে। ফলে একাধিক রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হবে।

৩. ক্ষতের চিকিৎসা করে পারে :
থানকুনি পাতা শরীরে উপস্থিত স্পেয়োনিনস এবং অন্যান্য উপকারি উপাদান এক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো এবার থেকে কোথাও কেটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে অল্প করে থানকুনি পাতা বেঁটে লাগিয়ে দিতে পারেন । দেখবেন নিমেষে কষ্ট কমে যাবে আর আরাম লাগবে ।

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে সাহায্য করে :
থানকুনি পাতা হজম ক্ষমতারও উন্নতি করে । কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতায় উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ যাতে টিক মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে পারে । ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না ।

৫. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে :
থানকুনি পাতায় উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড, বিটা ক্যারোটিন, ফ্য়াটি অ্যাসিড এবং ফাইটোকেমিকাল ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে । ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্কিনের ঔজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে কম বয়সে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে যাবে ।

৬. আমাশয়ের মতো সমস্যা দূর করতে পারে :
এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিয়ম করে থানকুনি পাতা খেতে পারেন । এমনটা টানা ৫-৭ দিন যদি করতে পারেন, তাহলেই কেল্লাফতে! এই ধরনের সমস্যা কমাতে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারবেন। প্রথমে পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা বেটে নিবেন। তারপর সেই রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মেশাবেন। এই মিশ্রনটি দু চামচ করে, দিনে দুবার খেলেই দেখবেন কষ্ট কমে যাবে আপনার ।

৭. পেটের রোগের চিকিৎসায় কাজে আসতে পারে :
অল্প পরিমাণ আম গাছের ছালের সঙ্গে ১ টি আনারসের পাতা, হলুদের রস এবং পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা ভাল করে মিশিয়ে ভাল করে বেটে নিবেন। এই মিশ্রনটি নিয়মিত খেলে অল্প দিনেই যে কোনও ধরনের পেটের অসুখ সেরে যেতে সাহায্য করবে। সেই সঙ্গে ক্রিমির প্রকোপও কমে যাবে ।

৮. কাশির প্রকোপ কমে যাবে :
১ চামচ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মিশিয়ে খেলে সঙ্গে সঙ্গে কাশি কমে যাবে । আর যদি এক সপ্তাহ খেতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই। সেক্ষেত্রে কাশির কোনও চিহ্ন দেখতে পারবেন না একদম কমে যাবে ।

image

৯. জ্বরের প্রকোপ কমে যাবে :
সিজন চেঞ্জের সময় যারা প্রায়শই জ্বরের ধাক্কায় কাবু হয়ে যান , তাদের তো থানকুনি পাতা খাওয়া মাস্টবি ! কারণ আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে যে জ্বরের সময় ২ চামচ থানকুনি এবং ১ চামচ শিউলি পাতার রস মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে অল্প সময়েই জ্বর কমে যায়। সেই সঙ্গে শারীরিক দুর্বলতাও কমে যেতে সাহায্য করে।

১০. গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয় করতে পারে :
অসময়ে খাওয়ার কারণে ফেঁসেছেন গ্যাস্ট্রিকের জালে তাই না ? নো প্রবেলম! থানকুনি পাতা কিনে আনুন বাজার থেকে বা বাড়ির সামনে এগিয়ে দেখেন পাওয়া যায় কি না । তাহলেই দেখবেন সমস্যা একেবারে হাতের মধ্যে চলে আসতে পারে । আসলে এক্ষেত্রে একটা ঘরোয়া চিকিৎসা দারুন কাজে আসতে পারে । কী সেই চিকিৎসা? হাফ লিটার দুধে ২৫০ গ্রাম মিশ্রি এবং অল্প পরিমাণে থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে একটা মিশ্রন তৈরি করে ফেলবেন। তারপর সেই মিশ্রন থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে প্রতিদিন সকালে খাওয়া শুরু করবেন। ইনসা আল্লাহ কমে যাবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *