ফিট থাকতে চাইলে বয়স কোনো বাধা নয়—এ কথা এখন আর শুধু অনুপ্রেরণামূলক উক্তি নয়, বরং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সত্য। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ৩০ বছর বয়স থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন শুরু করলে ৭০ থেকে ৮০ বছর বয়সেও শরীর ও মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখা সম্ভব।
সাধারণত সত্তরের কোঠায় পৌঁছালে দুর্বলতা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, জয়েন্টের সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ দেখা দেয়। তবে নিয়মিত ভালো অভ্যাস বজায় রাখলে বার্ধক্যের এই প্রভাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
কেন ৩০ বছর বয়স থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি?
৩০ পেরোনোর পর শরীরে ধীরে ধীরে কিছু পরিবর্তন শুরু হয়—
-
মাংসপেশির শক্তি কমে
-
হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস পায়
-
বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়
এই পরিবর্তনগুলো চোখে না পড়লেও ভবিষ্যতের সুস্থ বা অসুস্থ বার্ধক্যের ভিত্তি এখানেই তৈরি হয়। তাই বিশেষজ্ঞরা ৩০–এর পরের সময়টাকে “গোল্ডেন ডেকেড” হিসেবে বিবেচনা করেন।
৩০ বছর বয়সের পর যেসব অভ্যাস আপনাকে দীর্ঘদিন ফিট রাখবে
১. নিয়মিত ব্যায়াম ও খেলাধুলা
নিয়মিত শরীরচর্চা বার্ধক্যের গতি কমাতে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। গবেষণায় দেখা গেছে—
-
প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৭৫ মিনিট দৌড়ানো বা দ্রুত হাঁটা বার্ধক্য প্রক্রিয়া ধীর করে
-
টেনিস, ব্যাডমিন্টন, সাইক্লিংয়ের মতো খেলাধুলা হাড় ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে
বয়স্কদের বড় ঝুঁকির একটি হলো পড়ে যাওয়া। নিয়মিত ব্যায়াম এই ঝুঁকি অনেকটাই কমায়।
২. দাঁত ও মাড়ির যত্ন নিন এখনই
৩০ বছর পার হলেই দাঁত ও মাড়ির যত্নে অবহেলা করলে ভবিষ্যতে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
-
নিয়মিত দাঁত ব্রাশ ও ফ্লস ব্যবহার
-
ধূমপান পরিহার
-
অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলা
মাড়ির দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মুখের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও কমে।
৩. পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম
অপর্যাপ্ত ঘুম শরীরের হরমোন ও বিপাক ব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে—
-
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া
-
৭–৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম
মধ্যবয়সে ভালো ঘুমের অভ্যাস হৃদ্রোগ ও স্মৃতিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমায়।
৪. পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাস
৩০ বছর বয়স থেকেই খাবারের মান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
-
প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান
-
বেশি করে শাকসবজি ও ফল রাখুন খাদ্যতালিকায়
গাজর, মিষ্টি আলু, আম, খেজুরের মতো খাবারে থাকা ক্যারোটিনয়েড শরীরের কোষকে সুরক্ষা দেয় এবং বয়সের প্রভাব ধীর করে।
৫. মাঝে মাঝে উপবাস (ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং)
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শরীরের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
-
১৬:৮ না পারলে
-
১২ ঘণ্টা উপবাস + ১২ ঘণ্টা খাবার এই সহজ নিয়মও উপকারী
এতে শরীর নিজেকে মেরামতের সময় পায়।
সুস্থ বার্ধক্য আপনার হাতেই
বার্ধক্য থামানো সম্ভব নয়, কিন্তু বার্ধক্যের গতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ৩০ বছর বয়স থেকেই যদি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা যায়, তাহলে বয়স বাড়লেও জীবন থাকবে অনেক বেশি সক্রিয়, স্বাধীন ও আনন্দময়।




















আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...