বিশ্বজুড়ে ক্যানসার এখন একটি বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। উন্নত দেশের পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও ক্যানসারের আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জীবনযাত্রার পরিবর্তন তামাকের ব্যবহার অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা পরিবেশদূষণ এবং রোগ শনাক্তে দেরি এই সবকিছু ক্যানসার বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
স্বস্তির বিষয় হলো অনেক ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধযোগ্য এবং প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে সফল চিকিৎসার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কিন্তু সচেতনতার অভাবে অনেক রোগী দেরিতে চিকিৎসা নিতে এসে জটিলতার মুখে পড়েন।
ক্যানসারের সম্ভাব্য লক্ষণ যেগুলো অবহেলা করবেন না
ক্যানসার সাধারণত হঠাৎ করে দেখা দেয় না। এটি ধীরে ধীরে শরীরের ভেতরে বিকশিত হয়। তাই কিছু লক্ষণ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে সতর্ক হওয়া জরুরি
-
দীর্ঘদিনেও ক্ষত না শুকানো
-
শরীরের কোথাও অস্বাভাবিক গাঁট বা চাকা
-
অকারণে হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া
-
দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন
-
মুখ, মল, প্রস্রাব বা যোনিপথে রক্তপাত
-
গিলতে সমস্যা হওয়া
-
স্তনের আকৃতি বা ত্বকের পরিবর্তন অথবা বোঁটা দিয়ে রস নিঃসরণ
এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
ক্যানসার প্রতিরোধে কী করবেন
ক্যানসার ঝুঁকি কমাতে দৈনন্দিন জীবনে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি
-
ধূমপান ও সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্য সম্পূর্ণভাবে বর্জন করতে হবে।
-
প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি ও ফলমূলের পরিমাণ বাড়াতে হবে।
-
অতিরিক্ত তেল, চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া উচিত।
-
নিয়মিত ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার।
-
নারীদের জন্য জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসারের নিয়মিত স্ক্রিনিং গুরুত্বপূর্ণ।
-
পুরুষদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সের পর প্রোস্টেট ও ফুসফুস ক্যানসার বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
-
হেপাটাইটিস বি ও এইচপিভি টিকা গ্রহণ লিভার ও জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ক্যানসারের সন্দেহ হলে কোথায় যাবেন
ক্যানসারের লক্ষণ দেখা দিলে প্রথমে নিকটস্থ এমবিবিএস চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। প্রয়োজনে সরকারি হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা বিশেষায়িত ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্র ও অনকোলজি বিভাগে যোগাযোগ করা উচিত।
ভ্রান্ত চিকিৎসা, দালালচক্র বা অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। ক্যানসারের ক্ষেত্রে আধুনিক ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর।
সচেতনতাই পারে জীবন বাঁচাতে
ক্যানসার মানেই শেষ নয়। সময়মতো রোগ শনাক্ত এবং সঠিক চিকিৎসা পেলে অনেক ক্ষেত্রেই সুস্থ জীবন ফিরে পাওয়া সম্ভব। ভয় নয় সচেতনতা দেরি নয় দ্রুত সিদ্ধান্ত এই মানসিকতাই ক্যানসারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।




















আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...