ভাবুন তো, রাত দুইটায় হঠাৎ অসুস্থতা। হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু একটি ফোন কলেই যদি চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া যায়—এটাই ছিল স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩–এর সবচেয়ে বড় শক্তি। অথচ আজ এই জীবনরক্ষাকারী সেবাটিই অস্তিত্ব সংকটে।
বছরের পর বছর ধরে ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করে মানুষ বিনা খরচে চিকিৎসা পরামর্শ পেয়ে এসেছে। মানসিক স্বাস্থ্য, কিশোরদের সমস্যা, পরিবার পরিকল্পনা, এমনকি জরুরি সেবার তথ্য—সবই মিলত এক নম্বরে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে, যেখানে কমিউনিটি ক্লিনিক নেই, সেখানে এই সেবার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় সেবা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান চিকিৎসক ও কর্মীদের বেতন দিতে পারছে না। যারা দিনের পর দিন মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁরাই আজ অনিশ্চয়তার মুখে। এই অবস্থা চলতে থাকলে সেবাটি বন্ধ হয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই নম্বরে ফোন করেন। করোনাকালে তো এই সেবাই ছিল অসংখ্য মানুষের প্রথম ভরসা। শুধু চিকিৎসা নয়, এখান থেকে পাওয়া তথ্য জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য পরিকল্পনা তৈরিতেও সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনে নামমাত্র টোল চালু করেও হলেও এই সেবা চালু রাখা উচিত। কারণ এটি বন্ধ হলে বিকল্প কোনো কার্যকর টেলি স্বাস্থ্যসেবা বর্তমানে নেই।
১৬২৬৩ শুধু একটি কল সেন্টার নয়—এটি মানুষের আস্থার জায়গা। প্রশ্ন হলো, আমরা কি এই আস্থাকে হারাতে দেব?




















আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...