শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কর্মক্ষেত্রে চটকদার ভাষা: দক্ষতার প্রমাণ নাকি দুর্বলতার আড়াল? প্রাথমিকে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, পিএসসির মাধ্যমে ১১২২ পদে নিয়োগ, অপেক্ষায় ৭ লাখ প্রার্থী Free Word Counter Tool দিয়ে সহজেই শব্দ গণনা করুন (Students & Writers এর জন্য গাইড) ফ্রি Backlink Maker Tool দিয়ে কীভাবে ওয়েবসাইটের র‍্যাংক বাড়াবেন (২০২৬ গাইড) ActionAid Bangladesh-এ ১০টি পদে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ৫০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় কঠোর বিধিনিষেধ জারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে অফিসার ক্যাডেট নিয়োগ, আবেদন শেষ ১৫ মার্চ নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৯টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল ইউনিটে ১২ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ইরান নারী ফুটবল দলের আরও দুই সদস্যকে মানবিক ভিসা দিল অস্ট্রেলিয়া
প্রাথমিকে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, পিএসসির মাধ্যমে ১১২২ পদে নিয়োগ, অপেক্ষায় ৭ লাখ প্রার্থী
/ ২৯৮ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ ২০২৬, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর নোটিশ, প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সময়সূচী, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ২০২৬, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নোটিশ ২০২৬, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর রেজাল্ট 2026, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ রেজাল্ট,
তিন অধিদপ্তরের মোট শূন্য পদ ১৩ হাজার ৫৯৯ টি

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের বড় ধরনের সংকট এখন স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত মোট ৬৫ হাজার ৪৫৭টি প্রধান শিক্ষকের পদের মধ্যে প্রায় ৩৪ হাজার ১৫৯টি পদই বর্তমানে খালি রয়েছে। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয় স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে যা প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক।

এত বিপুল শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে মাত্র ১ হাজার ১২২টি পদের জন্য। এই সীমিত সংখ্যক পদের জন্য আবেদন করেছেন প্রায় ৭ লাখ প্রার্থী। ফলে প্রতিটি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৬২৪ জন চাকরিপ্রার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন, যা দেশের শিক্ষিত বেকারত্ব পরিস্থিতির তীব্রতা প্রকাশ করে।

বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। কিন্তু শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্ম কমিশনের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীকে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া এবং পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখা এই দুই বিষয়েই বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে অতীতে কিছু নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় এবার কঠোর নজরদারির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

যদিও আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে অনেক আগে, এখনো পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা না হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নেওয়া অনেকের জন্য এই অনিশ্চয়তা মানসিক চাপ তৈরি করছে এবং পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে, শুরুতে ঘোষিত পদের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১৬৯টি। কিন্তু নিয়োগ বিধিমালায় পরিবর্তন আনার ফলে সরাসরি নিয়োগের সংখ্যা কমিয়ে ১ হাজার ১২২টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মোট শূন্য পদের ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং বাকি ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। এতে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

পরীক্ষা পদ্ধতি অনুযায়ী, মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। এর মধ্যে ৯০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা থাকবে, যেখানে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন করা হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে। এরপর সফল প্রার্থীরা ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

সার্বিকভাবে, প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে দ্রুত এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশাল সংখ্যক প্রতিযোগীর মধ্যে থেকে শেষ পর্যন্ত যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচনই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

সর্বমোট প্রকাশিত : 46